গর্ভবতী হওয়ার আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন

গর্ভবতী হওয়ার আগে কিছু প্রস্তুতি / গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যকর খাবার / গর্ভবতী মায়ের টীকা / গর্ভবতী মায়ের জন্য ভিটামিন ডি/ গর্ভবতী অবস্থায় যে সব খাবার

গর্ভবতী হওয়ার আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন

গর্ভবতী হওয়ার আগে  কিছু প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। এতে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আর মা ও বাচ্চার স্বাস্থ্যের জন্যই প্রস্তুতি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আসসালামু আলাইকুম আমি পুষ্টিবিদ আয়শা সিদ্দিকা। আজকে আমি আলোচনা করবো গর্ভবতী হওয়ার আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন এ বিষয়ে আরও জানতে আমাদের পেইজ সূচিপত্রে দেখতে পারেন।

গর্ভবতী হওয়ার আগে কিছু  প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।


কী ভিটামিন খাবেন, কী খাবার খাবেন কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন, কোন টেস্ট করানো দরকার, কোন টিকা নিতে হবে, ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন কিনা। এমন সব বিষয় নিয়ে

আলোচনা করব। প্রথমেই যে বিষয়টা বলবো তা হল ফলিক এসিড। 


ফলিক এসিড কি? 


এক ফলিক অ্যাসিড একটা সুস্থ বাচ্চা জন্মানোর জন্য ফলিক অ্যাসিড খুব গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের শরীর যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলিক এসিড না থাকে, বাচ্চার ব্রেন আর মেরুদণ্ডে গুরুতর জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে। 


এটা ঠেকাতে প্রেগন্যান্ট হওয়ার আগে থেকেই সচেতন থাকতে হবে। কারণ গর্ভে বাচ্চা আসার অন্তত এক মাস আগে থেকে মায়ের শরীরে যথেষ্ট পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড থাকা লাগবে তাহলে করণীয় কী?


ফলিক এসিডের করণীয়


যখন থেকে আপনি প্রেগন্যান্ট হওয়ার চেষ্টা শুরু করবেন তখন থেকেই প্রতিদিন ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খাবেন৷ এটা চলবে প্রেগন্যান্ট হয়ে যাওয়ার পর ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রেগন্যান্ট হওয়ার আগে থেকে যদি আপনি ফলিক অ্যাসিড না খেয়ে থাকেন তাহলে যখন জানবেন আপনার গর্ভে সন্তান এসেছে সেদিন থেকেই খাওয়া শুরু করবেন। কিছু খাবারে  ফলিক অ্যাসিড আছে যেমন পালংশাক, পাতাকপি ইত্যাদি। কিন্তু প্রেগন্যান্সির জন্য যতটুকু  প্রয়োজন সেটা শুধুমাত্র খাবার থেকে নেওয়া সম্ভব হয় না তাই আলাদা করে ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খাওয়া প্রয়োজন।


গর্ভবতী মায়ের টীকা


আপনার যদি কোনও টিকা নেওয়া বাকি থাকে থাহলে প্রেগন্যান্ট হওয়ার আগে টীকা নেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। তা হলে আপনার অনাগত সন্তান সুরক্ষিত থাকবেন। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হলো হেপাটাইটিস বি টিকা এই টিকা নিতে হবে? গর্ভবতী অবস্থায় যদি আপনি হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হন তাহলে মারাত্মক রোগ দেখা দিতে পারে এবং আপনার কাছ থেকে আপনার সন্তানও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তাই টিকা না দেওয়া থাকলে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।


এই টিকা গর্ভবতী নারীদেরকে দেওয়া যায় না। তাই আগে থেকে নিয়ে নিতে হয় টিকা নেওয়ার পর এক মাস পর্যন্ত বাচ্চা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে


গর্ভবতী মায়ের জন্য ভিটামিন ডি


ভিটামিন ডি আমাদের হাড় দাঁত ও মাংসপেশীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে গর্ভের বাচ্চার হাড় দাঁত সহ বিভিন্ন অঙ্গের সুস্থ গঠনের জন্য ভিটামিন ডি প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের অনেকের শরীরেই ভিটামিন ডি এর অভাব রয়েছে৷ 2022, 23 সালে একটা জরিপে দেখা যায় যে বাংলাদেশে প্রতি চারজনে একজন নারীর ভিটামিন ডি এর ঘাটতি আছে শুধু খাবার থেকে ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ করা যায় না। সাধারণত রোদে গেলে শরীর ভিটামিন ডি তৈরি করে নেয়। চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে জানবেন আপনার ভিটামিন ডি এর ঘাটতি আছে কি না। 

ভিটামিন ডি এর ঘাটতি থাকলে তা সহজে পূরণ করা সম্ভব। ডাক্তার বলে দিতে পারবেন কী মাত্রায় ভিটামিন ডি খেলে আপনার অভাব পূরণ হবে।


গর্ভবতী মায়ের স্বভাবিক ওজন


গর্ভবতী মায়ের ওজন যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, তা হলে গর্ভধারণের সময় নানা রকম রোগ দেখা দিতে পারে। যেমন ডায়াবেটিস, হাই ব্লাডপ্রেশার, প্রিক্ল্যাম্পশিয়ার ইত্যাদি।

 বাচ্চা প্রসবের পরে অনেক রক্তপাত হতে পারে নর্মাল না হয়ে সিজার করা লাগতে পারে। ওজন স্বাভাবিক থাকলেও এই সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে। কিন্তু ওজন বেশি হলে ক্ষেত্রভেদে এগুলো সম্ভাবনা 2*3*4 গুণ বেড়েযায় আবার ওজন যদি স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয় তখনও কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন সময়ের অনেক আগেই প্রসব হতে পারে বাচ্চার ওজন কম হতে পারে।

তাই গর্ভধারণের আগে মায়ের স্বাভাবিক ওজন থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।


যখন আপনি বাচ্চা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন আপনার ওজন মেপে দেখবেন স্বাভাবিক আছে কি না। এটা বোঝার জন্য সাধারণত আমরা দেখি উচ্চতা অনুযায়ী আপনার ওজন ঠিক আছে কিনা এই মাপকে বলা হয় বডি ম্যাস ইনডেক্স বা বিএমআই। এই হিসেব কী ভাবে করতে হয় তা যদি আপনার অজানা থাকে তাহলে অনুগ্রহ করে কমেন্টে আপনার উচ্চতার ওজন লিখে দেবেন৷ কিছু দিনের মধ্যে রিপ্লাই করে জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।আপনার ওজন স্বাভাবিক মাত্রায় রয়েছে কি না ওজন যদি স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বেশি হয় তাহলে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবেন। আর একটা কথা মনে রাখবেন যদি অতিরিক্ত ওজন নিয়ে গর্ভধারণ করলে ঝুঁকি বেশি থাকে। আর কোনোভাবেই গর্ভবতী অবস্থায় ওজন কমানোর চেষ্টা করা যাবে না। 


 গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যকর খাবার


আমাদের প্রত্যেকেরই সবসময় স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। তবে আপনি যখন বাচ্চা নেবেন বলে ঠিক করেছেন তখন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 


খাওয়ার সময় দেখা যায়, আমরা ভাত বেশি খাই পেট ভর্তি করে ভাত নিয়ে সাথে অল্প তরকারি নেই। কিন্তু এ ভাবে খেলে শরীর যা পুষ্টি দরকার তা পূরণ হয় না। চেষ্টা করবেন পেটের অর্ধেক শাক সবজি আর ফলমূল দিয়ে পূরণ করতে। তার পর নেবেন আমিষ জাতীয় খাবার যেমন মাছ, মুরগির মাংস, ডাল ইত্যাদি। আর চেষ্টা করবেন। ভাত দিয়ে তরকারি খাওয়ার বদলে আপনি তরকারি দিয়ে ভাত খাবেন। অল্প ভাতের সাথে বেশি তরকারি খেতে চাইলে তরকারিতেও একটু কম মশলা লবণ দিতে হয়। এভাবে খাওয়া শুরু করবে।


গর্ভবতী অবস্থায় যে সব খাবার খাওয়া যাবে না।


গর্ভবতী অবস্থায় যে সব খাবার খাওয়া যাবে না। যেমন হাই প্রসেসড ফুড, ফাস্ট ফুড যেসব খাবারে অতিরিক্ত পরিমাণে তেল চর্বি চিনি লবন দেওয়া আছে, বাসায় রান্না করা খাবার আমরা যে পরিমাণে লবণ চিনি বা তেল দেই অনেক প্রক্রিয়াজাত খাবারে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি পরিমানে দেওয়া হয় সুস্বাদু করার জন্য। তাই বাইরে থেকে কিছু কিনে খাওয়ার আগে এগুলো দেখে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। মোট কথা যখন আপনি বাচ্চা নিয়ে পরিকল্পনা করছেন,একট। ব্যালান্সড ডায়েট বা সুষম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন।


গর্ভবতী মায়ের আশেপাশে যদি কেউ ধূমপান করে তাহলে জন্মের সময় বাচ্চার ওজন কম হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় 20%।তাই পরিবারের কেউ যদি ধূমপান করে সেটা তখন বন্ধ করতে হবে। আর গর্ভধারণের সময় কিছু রোগ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। তাই ভালো হয় একজন ডাক্তারের সাথে তখন পরামর্শ করে নেওয়া আপনার স্বাস্থ্যের অবস্থা কেমন। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, খিঁচুনি ইত্যাদি আছে কি না তা পরিক্ষা করে চিকিৎসা নিতে হবে।

পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
কোন মন্তব্য নেই
এই পোস্ট সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানান

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন - অন্যথায় আপনার মন্তব্য গ্রহণ করা হবে না।

comment url